অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম বছর শেষে ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলারে নেমে আসতে পারে। দাম কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখবে পণ্যটির নিম্নমুখী চাহিদা। সম্প্রতি এশিয়া প্যাসিফিক পেট্রোলিয়াম কনফারেন্সে দেয়া এক বক্তব্যে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সহসভাপতি ডেভ আর্নসবার্গার এমন পূর্বাভাস দেন। খবর রয়টার্স।
ডেভ আর্নসবার্গার বলেন, ‘ওপেকভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়িয়েছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি দেশগুলো মজুদ কমিয়ে দিলে কন্ট্যাঙ্গো পরিস্থিতি তৈরি হবে। এ কারণে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।’
উল্লেখ্য, স্পট মার্কেটের চেয়ে ফিউচার মার্কেটে দাম বেশি হলে কন্ট্যাঙ্গো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে ‘ডেটেড ব্রেন্ট’ (স্পট মার্কেট) দামের ভিত্তিতেই বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাণিজ্য হয়। এছাড়া এ দামই আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের ফিউচার মার্কেটের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে উদ্বৃত্ত কিছুটা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলন সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রভাব রাশিয়ার উত্তোলন হ্রাস ও বৈশ্বিক চাহিদার সম্ভাব্য বৃদ্ধি দুটোকেই ছাপিয়ে যেতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২৫ সালের জন্য ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের (মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) মূল্য পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে। ২০২৬ সালের জন্য গড় দাম যথাক্রমে ব্যারেলপ্রতি ৫৬ ও ৫২ ডলার হবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে ওপেক প্লাস অক্টোবরেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বিশ্ববাজারে চাহিদা কিছুটা মন্থর হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় উত্তোলন ধীরগতিতে বাড়ানো হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওপেক প্লাস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস। সংগঠনটি গত এপ্রিল থেকে দৈনিক প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে। এটি বৈশ্বিক চাহিদার ২ দশমিক ৪ শতাংশের সমান।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উত্তোলন বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে অংশীদারত্ব বাড়ানো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব বৃদ্ধিও দামকে তেমন প্রভাবিত করতে পারেনি। পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলোয় উত্তোলন বাড়ানোর কারণে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এখনো ৬৬ ডলারের কাছাকাছি।